১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নাখালপাড়ার আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান, তিন জঙ্গী নিহত


নাখালপাড়ার আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান, তিন জঙ্গী নিহত

গাফফার খান চৌধুরী/আজাদ সুলায়মান ॥ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকশ’ গজের মধ্যেই তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ায় একটি জঙ্গী আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গী নিহত হয়েছে। নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত জঙ্গীরা র‌্যাবের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি চালিয়ে যায়। গোলাগুলিতে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়। দুর্ধর্ষ জঙ্গীরা জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য ছিল। আস্তানা থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইডাল ভেস্ট, চৌদ্দটি ডেটোনেটর, চারটি পাওয়ার জেল ও দুটি পিস্তল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য সেখানে আস্তানা গেড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাড়ির মালিক বিমানের স্টুয়ার্ট শাহ মোহাম্মদ সাব্বির হোসেনকে আবুধাবী থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের পরই ৭৭৭ বিমান থেকে আটক করা হয়। তাকে ঢাকায় র‌্যাব সদর দফতরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আর তার ছোট ভাই বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাখাওয়াতের বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোপূর্বে এই বাড়িতে চার দফায় অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব-পুলিশ। অভিযানে ১০ থেকে ১২ সন্দেহভাজন জঙ্গী ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আটক হয়েছিল। বাড়িটিতে আগ থেকেই জঙ্গীদের বসবাস করা এবং বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে জঙ্গীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বাড়ির মালিককে বাড়িতে মেস ভাড়া না দেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিয়েছেন। কিন্তু বাড়ির মালিক সেসব কথা আমলে নেননি। যদিও এর নেপথ্যের কারণ জানা যায়নি। এ ব্যাপারে বাড়িতে গিয়ে বাড়ির মালিকের তরফের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছর বিমানের সাব্বির নামের এক পাইলটের মিরপুরের দিয়াবাড়িতে গড়ে ওঠা জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাব। মিরপুরের ওই আস্তানায় সাত জঙ্গী নিহত হয়েছিল আর পাইলট সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। সাব্বিরের বিমান নিয়ে গণভবনে হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে র‌্যাবের সূত্রগুলো জানায়। পাইলট সাব্বির পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়ায় আস্তানাটির সন্ধান পায় র‌্যাব। মাত্র দুই কাঠা জমির ওপর ১৩/১ নম্বর রুবি ভিলা নামের ছয়তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় গড়ে তোলা আস্তানাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরে। বাড়ির মালিক শাহ মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন তার স্ত্রী রুবির নামে বাড়িটি নির্মাণ করে নাম রাখেন রুবি ভিলা। বাড়ির মালিকের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলে স্ত্রী নিয়ে তিনি বাড়িটির দোতলায় থাকেন। বাড়িটি পুরনো এমপি হোস্টেলের একেবারেই কাছে। আতিক জামে মসজিদের গলির মুখেই রুবি ভিলা নামের জঙ্গী আস্তানাটির অবস্থান।

আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ জন্য র‌্যাব অপেক্ষা করতে থাকে। রাত বাড়তে থাকে। মানুষজনের চলাচল কমে আসে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে র‌্যাবের উপস্থিতির সংখ্যা। রাত দেড়টার দিকে পুরো এলাকা কর্ডন করে ফেলে র‌্যাব। প্রতিটি রাস্তার মুখে অবস্থান নেয় র‌্যাব সদস্যরা। যানবাহন ও মানুষজনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষজনের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন র‌্যাব সদস্যরা।

রাত দুইটার দিকে বাড়িটির সামনে অবস্থান নেয় র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকার রুবেলকে ডেকে তোলা হয়। তাকে দরজা খুলে দিতে বলা হয়। পরিচয় পেয়ে রুবেল দরজা খুলে দিলে সোজা র‌্যাব সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন ফ্লোরে গিয়ে অবস্থান নেয়। দুই ইউনিটের ছয়তলা বাড়িতে প্রায় ষাটজন মানুষের বসবাস। এর মধ্যে তিনটি ফ্ল্যাট ছাড়া বাকি দশটি ফ্ল্যাটে পরিবার বসবাস করে। পরিবারের সদস্যদের আস্তে আস্তে নিরাপদে বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় আনা হয়। এরপর মেসে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে তিনটি মেসের মধ্যে দুইটি মেসের বাসিন্দাদের যথারীতি নিচে নামানো হয়। এরপর পঞ্চম তলার একটি মেসে গড়ে তোলা জঙ্গী আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালানোর আগেই র‌্যাব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

বাইরে থেকে র‌্যাব সদস্যরা দরজা নক করেন। দরজা খুলে দিতে বলা হয়। তারা দরজা খুলতে নারাজ। কথাবার্তার এক পর্যায়ে জোর করে দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। প্রথম গুলি চালানোর ঘটনাটি রাত সাড়ে তিনটার দিকে। এরপর র‌্যাবও গুলি চালাতে থাকে। শুরু হয় জঙ্গীদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি। জঙ্গীরা গ্রেনেড হামলা করে। পর পর কয়েকটি গ্রেনেড বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

আশপাশের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙ্গে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দে। ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত জঙ্গীদের সঙ্গে গোলাগুলি চলতে থাকে। গুলিতে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভোর সাড়ে চারটার পর ভেতর থেকে আর কোন গুলি শব্দ আসছিল না। এরপর আস্তে আস্তে র‌্যাব সদস্য ও র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল টিম সর্তকতার সঙ্গে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। সকাল হতে না হতেই বাড়িটির আশপাশে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের ভিড় সামলাতে রীতিমতো বেগ পেতে পুলিশ ও র‌্যাবকে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। গোলাগুলি থেমে গেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।

পরে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে তিনটিই মেস। ওই তিন মেসে ২০ থেকে ২২ জনের মত বসবাস করত। পঞ্চম তলার একটি কক্ষে আস্তানাটি গড়ে তুলেছিল নিহত জঙ্গীরা। আস্তানার ভেতরে তিন জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নিহতদের বয়স ২৫ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তাদের শরীর রীতিমতো পুড়ে গেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও তারা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আস্তানার ভেতরের দেয়ালগুলো আর বোমার স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়ে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বোমার বিস্ফোরণে দেয়ালের পলেস্তার ধসে পড়েছে। ভেতরের জিনিসপত্র ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে আগুন ধরে ভেতরের বেশিরভাগ জিনিসপত্রই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আস্তানা থেকে জাহিদের ছবিসহ দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তার একটিতে নামের জায়গায় জাহিদ লেখা রয়েছে। অপরটিতে নামের জায়গায় সজীব লেখা রয়েছে। তবে তাদের এ পরিচয় সঠিক কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয়পত্র ভুয়া বলে জানা গেছে।

বাড়ির কেয়ারটেকারের বরাত দিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, জাহিদ খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হত। কোথায় কার কাছে যেত সে সর্ম্পকে কোন তথ্য মেলেনি। গভীর রাতে বাসায় ফিরত। অন্য দুজন কখন বাসায় থাকত, কখন যাতায়াত করত তার কোন ঠিক ঠিকানা ছিল না। এমনকি বাড়ির বাসিন্দা এবং তাদের পাশের লোকজনও তা বলতে পারত না। তারা অনেক নিরিবিলি বসবাস করত। কারও সঙ্গে সাধারণত মিশতো না। নিজেদের সর্ম্পকে বা পবিরার সর্ম্পকে, গ্রামের বাড়ি কোথায়, কে কি করে সে সর্ম্পকে কারও সঙ্গে কোন কিছুই আলাপ আলোচনা করত না। কারও সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলারও প্রয়োজন মনে করত না।

মুফতি মাহমুদ বলেন, আস্তানা থেকে যে ধরণের শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে তারা বড় ধরণের কোন নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তাদের কাছ থেকে সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার হয়েছে। তারা আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য ছিল বলে সার্বিক পর্যালোচনা ধারণা করা হচ্ছে। নিহতরা গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জব্দকৃত আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আস্তানা থেকে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে একটি শক্তিশালী আইইডি গ্যাসের চুলার উপরে রাখা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের গ্যাসের চুলা ধরিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আগ থেকেই বাড়িটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কারণে জঙ্গীদের সে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তবে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটা বিচিত্র ছিল না। নিহত জঙ্গীদের বিষয়ে তথ্য পেতে বাড়ির কেয়ারটেকার রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সকাল দশটার দিকে র‌্যাব মহাপরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, জাহিদ নামের এক যুবক গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পাঁচ তলার ওই কক্ষটি ভাড়া নেয়। একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরি করে বলে জাহিদ পরিচয় দেয়। দুই ভাইকে নিয়ে ওই বাসায় জাহিদ থাকবে বলে জানায়। ভাড়া নেয়ার পর ৪ জানুয়ারি জাহিদ পরিচয় দেয়া সেই যুবক বাসায় ওঠেন। বাকি দু’জন ওঠেন ৮ জানুয়ারি। তাদের দেয়া পরিচয়পত্র প্রাথমিকভাবে ভুয়া বলে জানা গেছে। পরিচয়পত্রগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। নিহতদের একজনের গায়ে সুইসাইডাল ভেস্ট ছিল। আরেকজনের শরীরের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি লাগানো ছিল। এগুলোর বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গীদের শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় বলে সার্বিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ির মালিক শাহ মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন (৫৫)। বাড়ির মালিক এলাকার মানুষের সঙ্গে তেমন একটা মেলামেশা করতেন না। এমনকি তার পরিবারের লোকজনও আশপাশের মানুষজনের সঙ্গে মিশতেন না। তারা তেমন কোন সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যাতায়াত করতেন না। প্রায় ১৫ বছর আগে বাড়িটি তৈরি করেন রুবি ভিলার মালিক। বাড়ি মালিকের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। বাড়ির মালিককে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ বিমানের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক সাব্বির হোসেন বিমানের ফ্লাইট পারসার (ক্যাবিন স্ক্রু)। অভিযানকালে সাব্বির হোসেন আবুধাবী থেকে ৭৭৭ ফ্লাইটে চীফ পারসার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি বিমান নিয়ে আবুধাবী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত থাকা র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান। বিমান জানিয়েছে, রবিবার সাব্বিরের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাব্বিরের ছোট ভাই সাখাওয়াত হোসেন বিমানের পাইলট। এদিকে বাড়ির মালিকের একমাত্র ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে র‌্যাব।

বিকেল চারটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শেষ করে র‌্যাব। এর আগে র‌্যাবের ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আলামতের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম কাজল জানান, নিহত তিন পুরুষ জঙ্গীর লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে আরও জানা গেছে, জঙ্গীদের অবস্থানের খবরে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট র‌্যাব-পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। তখন বাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৩ সালেও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দুই দফা এই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব। ২০১৭ সালেও বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় মেস ভাড়া দেয়া নিয়ে এলাকার অনেকের আপত্তি ছিল। ওই বাড়ি থেকেই ইতোপূর্বে চালানো চার দফা অভিযানে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আটক হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে জঙ্গী ছাড়াও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী ছিল।

বাড়ির মালিক ও তার ছোট ভাই বিমানের ফার্স্ট অফিসার (পাইলট) সম্পর্কে র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় র‌্যাব সদর দফতরে আনা হয়েছে। তবে তার ছোট ভাই বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাখাওয়াতকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: